ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা শহরের আটানী বাজারের ছোট মসজিদ মোড়ে শুক্রবার দুপুরে ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এর জেরে শনিবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় ইটপাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান নিয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি রাতেই শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরানে হামলা: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে রোববার (১ মার্চ) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যাচ্ছে। লেনদেন শুরুর পরপরই অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম কমে যাওয়া সূচকের বড় পতন হয়েছে।

আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা বিক্রির চাপ বাড়ালেও, ক্রেতাদেরও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ফলে সূচকের বড় পতনের পর, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অবশ্য ক্রেতাদের থেকে বিক্রেতাদের চাপ বেশি থাকায় সূচক বড় পতনের মধ্যেই আছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় পুঁজিবাজারেও।
তাদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বিক্রির চাপ না বাড়ালে দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়।

এমন পতনের পর বাজারে কিছু ক্রেতাদের সংক্রিয় হতে দেখা যায়। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মাত্র কমে আসে। ফলে সূচকের পতনের মাত্রাও কমে। ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ১০০ পয়েন্ট উদ্ধার হয়।

অবশ্য বাজারে সার্বিকভাবে ক্রেতার থেকে বিক্রেতার আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ‌ ফলে বড় পতনের মধ্যেই রয়েছে শেয়ারবাজার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ৩০ মিনিটে ডিএসইতে মাত্র ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫১টির। আর ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৪৩ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট কমেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৪ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসেন। ফলে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

তিনি বলেন, ইরানে হামলার পর তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব আশঙ্কা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।

এসব আশঙ্কা থাকলেও যে কোনো সময় বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি। ডিএসইর এই সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এখন অবমূল্যায়িত অবস্থায়। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিক্রির চাপ না বাড়ালে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এই আতঙ্ক শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির ভয়াবহ চাপ তৈরি করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

একটি ব্রোকারেজ হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এখন আতঙ্কে বিক্রি না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কারণ, অনেক সময় এমন তাৎক্ষণিক পতন পরবর্তীতে আংশিকভাবে কাটিয়েও ওঠে।

খামেনির মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান।

রোববার (১ মার্চ) জামায়াত আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ শোক প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহ তাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি যদি আরও সামরিক উত্তেজনার দিকে যায়, তবে তা শুধু একটি দেশের নয়-পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে যেকোনো ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করবে এবং বিশ্বশান্তিকে আরও বিপন্ন করবে।

যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে ওঠেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তিনি আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই- অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করুন, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করুন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসুন। আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দাম্পত্য কলহ নিয়ে বিকেলে বৈঠক, রাতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

জয়পুরহাটের কালাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর হাতে খালেদা বিবি নামে এক গৃহবধূ খুনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা উত্তর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খালেদা বিবি উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা উত্তর পাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে ও আব্দুল বাকির স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল বাকি তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করে আসছিলেন। সন্দেহের জেরে বিভিন্ন সময় পরিবারে কলহ লেগেই থাকতো। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তার স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করতেন, টাকা না পেলে গহনা ও মোবাইল ফোন নিয়ে বিক্রি করে দেন।

শনিবার বিকেলেও তার স্ত্রীর সোনার চেইন এবং মোবাইল নিয়ে নেন। পরে তার স্ত্রী গ্রামের লোকজনদের জানালে পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে চেইন ও মোবাইল খালেদা বিবিকে ফেরত দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে গ্রামবাসী স্থান ত্যাগ করলে শোয়ার ঘরে যান ওই দম্পতি। পরে রাত আনুমানিক তিনটার দিকে সেহরি খাওয়ার জন্য তাদের বাসায় থাকা গৃহকর্মী আব্দুল বাকিকে ডাকলে তিনি দরজা খুলে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। তখন রুমে এসে খালেদা বিবিকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে কালাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, ঘরের ভেতর খালেদা বিবিকে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জর্ডানে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ মার্কিন দূতাবাসের

জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সেদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জর্ডানের আকাশসীমায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, জর্ডানের আকাশসীমায় বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন অথবা রকেট অবস্থান করছে। সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে কোনো মজবুত ছাদের নিচে বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সবাই যেন ঘরের ভেতরে অবস্থান করেন এবং স্থানীয় সংবাদ ও কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার দিকে কড়া নজর রাখেন।
সূত্র: আল-জাজিরা

মন্ত্রী আসার খবরে নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান উধাও

রাজধানীর নিউমার্কেটে একটি ফুটওভার ব্রিজের উদ্বোধন করতে আসবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এজন্য ফুটওভার ব্রিজের আশপাশের ফুটপাতে থাকা দোকান সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এতে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে। আগে যেখানে হাটা কষ্টকর ছিল সেখানে গাড়ির গতি অনেকটা বেড়েছে।সাধারণ মানুষরা বলছেন, প্রতিদিন যদি মন্ত্রী আসতেন আর ফুটপাতের দোকান সরিয়ে দেওয়া হতো তাহলে যাতায়াতে এত কষ্ট আর হতো না।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটে সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মন্ত্রী আসবেন সেজন্য নিউমার্কেট, ধানমন্ডি থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হন। মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে টানানো হয় ব্যানার। যেখানে ছোট ছোট দোকানে সড়কের অনেকাংশ দখল হয়ে থাকতো সেখানে দোকানই নেই। এতে নিউমার্কেটের সামনের মিরপুর রোড দিয়ে যানচলাচলে গতি বাড়ে।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, নিউমার্কেটের যানজটের অন্যতম কারণ সড়কে থাকা ফুটপাতের দোকান। এসব দোকান সড়কের অনেকটা জায়গাজুড়ে থাকে। এতে ভয়াবহ যানজটে পড়তে হয় সাধারণ মানুষের। দোকান না থাকায় চলাচলে আজ কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। জ্যামে অনেক সময় নষ্ট হয়। ফুটপাতে দোকান থাকার কারণেই যানজট হয়। শুনেছি আজ মন্ত্রী আসবেন। এজন্য বোধহয় দোকানগুলো সব তুলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে। প্রতিদিন যদি মন্ত্রী আসতেন তাহলে দোকানগুলো আর থাকতো না।

সালমান নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, মন্ত্রী আসবে এজন্য দোকান উঠানো হয়েছে। চলে গেলে দোকান আবারও বসবে। নিউমার্কেটের ফুটপাতে দোকান না বসলে বসবে কোথায়! এ কথা বলে একটু হাসি দেন তিনি।

মন্ত্রী আসার খবরে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকেও বেশ দায়িত্বশীল থাকতে দেখা গেছে। আগে যেখানে যত্রতত্র যাত্রী উঠাতে বাস থামতো আর যানজট তৈরি হতো সেখানে আজ চলতি কোনো গাড়িই দাঁড়াতে পারছে না। বেশ কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

গণভবন নয়, সংসদ হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদকে দেশের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। অতীতে জাতীয় সংসদ নামমাত্র থাকলেও মূল কেন্দ্র ছিল গণভবন। এখন সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও বহুমত থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐকমত্যে থাকতে হবে। জাতীয় সংসদকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করবো। অতীতে জাতীয় সংসদ নামমাত্র থাকলেও মূল কেন্দ্র ছিল গণভবন। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি। জাতীয় সব ইস্যু সেখানে আলোচনা হবে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি কার্যকর সংসদ গঠনই হবে আগামীর লক্ষ্য।

এনসিপি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম বছরই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে ছয়টি আসন পাওয়া দলটির জন্য বড় সাফল্য। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সময় লাগবে তবে সবকিছু ওভারনাইট (রাতারাতি) হয় না। রাজনীতির উত্থান-পতন যারা মানতে পারেনি তারা রাজনীতিতে টিকে থাকেনি।

রাজনীতির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এখন সনাতন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ১৯৫২ বা ১৯৭১ এর ইতিহাস দিয়ে বক্তব্য শুরু করতে করতে বর্তমানের জন্য আর কিছু থাকে না বক্তব্যে। আমাদের ইতিহাসের পাশাপাশি ভূগোলের দিকেও তাকাতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য রাজনীতি করতে হবে।

গণতন্ত্রের মাঠে শত ফুল ফুটবে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অনেক ফুলকে দেখেছি শুধু রাজনৈতিক সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এনসিপি যেন সত্যিকার অর্থে এই দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এ দেশের জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা তারা যেন ধারণ করে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেই রকম রাজনীতি এনসিপি যেন করে। রাজনীতি একটি গতিশীল বিষয়। আমাদের গতিশীলতাকে মেনে নিতে হবে। আমরা সবাই জাতীয় স্বার্থে এক থাকবো।

রোববার অস্ট্রেলিয়ায় শুরু মেয়েদের এশিয়ান কাপ ফুটবল

এশিয়ার মেয়েদের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতা এএফসি এশিয়ান কাপ। ৭ মাস আগেও বাংলাদেশের ফুটবলামোদীরা এই টুর্নামেন্টের খোঁজ-খবর সেভাবে রাখতে না। টুর্নামেন্টের যাত্রা কবে শুরু হয়েছে, কোনা দেশ কতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এসব তথ্য জানার আগ্রহ তেমন ছিল না। অথচ গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা যেদিন এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে সেদিন থেকেই এই টুর্নামেন্টের খুঁটিনাটি জানতে শুরু করেন ক্রীড়ামোদীরা।

এশিয়ার সেরা ১২ দলের লড়াই। শুধু তাই নয়, এই টুর্নামেন্ট থেকে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জনের সুযোগ আছে। সেই সাথে আছে অলিম্পিক গেমসের বাছাই পর্বের সুযোগও। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের পতাকা সর্বশেষ উড়েছিল এশিয়ান কাপের ভেন্যুতে। বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দলের সেই ইতিহাস এখন অনেক পুরনো। ২০২৫ সালে মেয়েরা এই অর্জন করায় দ্বিতীয়বার এশিয়ান মঞ্চে থাকছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার তিনটি শহর সিডনি, পার্থ ও গোল্ডকোস্টে বসছে এশিয়ান কাপের একুশতম আসর। ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক দল ছাড়াও অংশ নিচ্ছে চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, জাপান, ফিলিপাইন, চাইনিজ তাইপে ও ইরান।

এশিয়ান কাপের সবচেয়ে সফল দেশ চীন। ৯ বার শিরোপা জেতা এই দেশটি পড়েছে বাংলাদেশের গ্রুপে। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশ গ্রুপে আছে আগে পাঁচবার খেলা উজবেকিস্তান। এই টুর্নামেন্টে একমাত্র বাংলাদেশেরই হতে যাচ্ছে অভিষেক। ফিফার সর্বশেষ র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ সবার নিচে ১১২ নম্বরে।
রোববার পার্থে এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন। বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ শুরু হবে ৩ মার্চ। প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সবচেয়ে কঠিন দল চীন।

১২ দলের এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে ওঠা ৪ দেশ পাবে ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার টিকিট। কোয়ার্টার ফাইনালে হারা চার দলেরও সুযোগ থাকবে প্লে-অফে খেলে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করার। আর কোয়ার্টার ফাইনালের ৮ দল খেলবে অলিম্পিক গেমসের বাছাই পর্ব।

১২ দলের মধ্যে অষ্টম হতে হলে বাংলাদেশের জন্য মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। এই ম্যাচটি জিতলেই সেই সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রথম দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে জয়ের আশা করছেন না কেউ।

স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান আপনারা এখনই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। তৃণমূলকে আমরা শক্তিশালী করতে চাই। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছি। এতে আমরা সন্তুষ্ট নই, সামনের দিনগুলোতে আমরা এ অর্জন বৃদ্ধি করবো।

তিনি বলেন, এক বছর এনসিপি নানান রকম অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে গেছে৷ আমরা মনে করি বিপ্লব থেকে বিকল্প তৈরি হয়েছে। সেই বিকল্প পরবর্তী বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করবে।

আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদ থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি৷ ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, ফ্যাসিবাদ বিলুপ্তের রাজনীতি আমরা করছি। দেশের সামনের পথ এটাই, ফ্যাসিবাদকে বিলুপ্ত করে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণরূপে। সেজন্য সংস্কারের লড়াই, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লড়াই আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিলোপের জন্য বিচার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেই গণহত্যাকারী, গুম-খুনিদের বিচারের দাবিতে আমরা এখনো সরব।

কৃষিঋণ মওকুফের সুফল পাবেন ১২ লাখ প্রান্তিক কৃষক: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘সরকার প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তেরর ফলে প্রায় সাড়ে ১৪০০ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ হবে। এর সুফল পাবেন ১২ লাখ প্রান্তিক কৃষক।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় দিনাজপুর জেলার সব দপ্তর প্রধানের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের ১৪টি এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিক এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। তবে প্রতিটি পরিবারের জন্য কার্ডটি দেওয়া হবে পরিবারের মহিলা প্রধানের নামে। এ কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবার প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকার সুযোগ-সুবিধা পাবে।

তিনি বলেন, রেল যোগাযোগের কথা আলোচনা করা হয়েছে। রেল স্টেশন সমস্যা রয়ে গেছে। বাচ্চাদের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় শিশু পার্ক করতে পারি, শিশুর শোধনাগারের প্রয়োজন, খেলাধুলার জন্য জেলা স্টেডিয়াম দুর্বল, কোনো উপজেলায় স্টেডিয়াম নেই, যে সব উপজেলায় স্টেডিয়াম রয়েছে সে সব উপজেলায় খেলাধুলার মান এবং পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে হবে।

দিনাজপুর কৃষি প্রধান অঞ্চল হওয়ায় সারের দাম কম বেশি হয়, বিএডিসি বিসিআইসি কর্তৃক সার বিতরণ যাতে যথাযথ গুরুত্ব পায় সে বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। হাসপাতালে সার্ভিস উন্নত করতে সিভিল সার্জন, তত্ত্বাবধায়ক, পরিচালক, অধ্যক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তারা চিকিৎসার সেবার মান উন্নয়ন করবেন।

এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি খেলাধুলার মান বাড়াতে পারলে নতুন প্রজন্মকে মাদক থেকে আরও দূরে রাখা সম্ভব হবে। এ দুটি দিক একসঙ্গে এগিয়ে নিলে সমাজকে সুন্দর ও সুস্থ পথে এগিয়ে নেওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনে সংসদ সদস্য এ জে এম রেজওয়ানুল হক উপস্থিত ছিলেন।