মন্ত্রী হয়ে রাজশাহী গিয়ে তিন ইচ্ছার কথা জানালেন মিনু

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার রাজশাহীতে গিয়ে প্রথম তিনটি ইচ্ছার কথা জানালেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, আমি রাজশাহীকে শান্তির শহর, চাঁদাবাজি এবং ভূমিদস্যু মুক্ত করতে চাই।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আমাদের সবার। এখানে আমরা আমাদের যার যে কাজ আছে, বিভাগীয় এডমিনিস্ট্রেশন, জেলা এডমিনিস্ট্রেশনের সবাই মিলে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আগামী দিনে রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক সাহেবের নির্দেশ সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা করা, কোনো শাসন নয়। আমরা জনগণের সেবা করতে চাই।

তিনি বলেন, যদি গুরুত্ব দিয়ে করা হয় তাহলে তিনটি কাজের মধ্যে প্রথম হচ্ছে রাজশাহীকে শান্তির শহরে রূপ দেওয়া। কোনো চাঁদাবাজি নয়, রাজশাহী থেকে কোনো ভূমিদস্যু নয়। যারা এগুলো করবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। সে যেই হোক আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

খামেনির মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান।

রোববার (১ মার্চ) জামায়াত আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ শোক প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহ তাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি যদি আরও সামরিক উত্তেজনার দিকে যায়, তবে তা শুধু একটি দেশের নয়-পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে যেকোনো ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করবে এবং বিশ্বশান্তিকে আরও বিপন্ন করবে।

যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে ওঠেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তিনি আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই- অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করুন, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করুন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসুন। আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান আপনারা এখনই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। তৃণমূলকে আমরা শক্তিশালী করতে চাই। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছি। এতে আমরা সন্তুষ্ট নই, সামনের দিনগুলোতে আমরা এ অর্জন বৃদ্ধি করবো।

তিনি বলেন, এক বছর এনসিপি নানান রকম অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে গেছে৷ আমরা মনে করি বিপ্লব থেকে বিকল্প তৈরি হয়েছে। সেই বিকল্প পরবর্তী বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করবে।

আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদ থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি৷ ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, ফ্যাসিবাদ বিলুপ্তের রাজনীতি আমরা করছি। দেশের সামনের পথ এটাই, ফ্যাসিবাদকে বিলুপ্ত করে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণরূপে। সেজন্য সংস্কারের লড়াই, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লড়াই আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিলোপের জন্য বিচার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেই গণহত্যাকারী, গুম-খুনিদের বিচারের দাবিতে আমরা এখনো সরব।

জামায়াত আমির সরকার পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধীদলের যে ভূমিকা সেটাই করবো

সরকার পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধীদলের যে ভূমিকা সেটাই আমরা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত সব সংগত পদক্ষেপে বিরোধীদলের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। কিন্তু আমাদের বিবেচনায় আমরা যদি দেখি যে সরকার কোনো অসংগত সিদ্ধান্ত কিংবা পদক্ষেপ নিয়েছে, আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতা করবো। সরকার আমাদের পরামর্শগুলো গ্রহণ করলে আমরা কৃতজ্ঞ হবো, জাতি উপকৃত হবে।

জামায়াত আমির বলেন, সরকার আমাদের পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধীদলের যে ভূমিকা সেটাই আমরা পালন করবো। আমরা জাতীয় অধিকারের পক্ষে দাঁড়াবো এবং জাতিকেও আমাদের সঙ্গে শামিল থাকতে বলবো।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের যখন ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া হরতাল ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আজ তার (খালেদা জিয়া) সন্তানের ওপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়েছে। আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধীদল হিসেবে এই সংসদে ফাংশন করতে চাই না। আমরা চাই এই সংসদ হোক অর্থবহ, জনগণের সব চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্র।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলও যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে, আমরাও বিরোধীদলের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চাই। অতীতে আমরা বিরোধীদল দেখেছি। নির্বাচন যেমন আমি-ডামি ছিল, বিরোধীদলও তেমনি আমি-ডামি ছিল। এই ধরনের কোনো বিরোধীদল কোনো দেশের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনতে পারে না।

ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এমন দেশ গড়তে চাই যেখানে ইনসাফ থাকবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আগামীতে এমন মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশে অনেক নির্বাচন হয়েছে, অনেক ওয়াদা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বেশিরভাগ ওয়াদা বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাই যুদ্ধে যুবকেরা একটি দাবি তুলেছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। সেই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা রাজনীতিতে আছি।

তিনি বলেন, আমরা বসন্তের কোকিল নই।

অতীতে অনেক জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি, এই মাটি ছেড়ে যাইনি। দুঃখের সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, সুখের সময়ও আপনাদের সঙ্গেই থাকব। আমরা জাতিকে পিছিয়ে নিতে চাই না, আমরা জাতিকে এগিয়ে নিতে চাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে নেবে জাতি।

জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। দেড় হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচন।

জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি টাঙ্গাইলের আটটি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের পক্ষে ভোট চান।

টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের ঢাকা উত্তরাঞ্চলের সদস্য হযরত মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান মাদানী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শাহাবুদ্দিন।

৫ ঘণ্টা কাজ মায়েদের জন্য : জামায়াতের ইশতেহার

জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে। যেখানে বলা হয়—বেকারত্ব দূর করতে সাত কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য দুই ভাগে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। সেটি দেশে ও দেশের বাইরে দুই জায়গাতেই করা হবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য পলিসি প্রস্তুত করার কথাও বলেছে দলটি। এজন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।

বিদেশে যেতে আগ্রহী বেকার জনশক্তিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, কম খরচে বিদেশে যাওয়ার জন্য আন্তঃসরকার চুক্তি, বিদেশ যাত্রায় ঋণ প্রদান ও ৫০ লাখ যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানেরও পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের।

জামায়াত তাদের ইশতেহারে বলেছে, দলটি ক্ষমতায় এলে নারীদের সম্মান রক্ষা করে নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

সেই সাথে মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের সম্মতি সাপেক্ষে কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হবে।

এ সময়ে জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান বলেন, “নারীদের যেন চাকরি না ছাড়তে হয় সেজন্য মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলেছি। অথচ এটা নিয়ে নানা কথা ছড়ানো হলো। আমরা নাকি নারীদের চাকরি করতে দিতে চাই না।

আমরা চাই—অনেক নারী মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন, তাদের যেন চাকরি না ছাড়তে হয়, সেজন্য কর্মঘণ্টা শিথিল করার কথা বলেছি।”

সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য যে ফি নেওয়ার রীতি আছে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই নিয়ম বাতিল করা হবে বলে ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এছাড়া ব্যবসায়ী সমাজের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের অঙ্গীকারও করেছে দলটি।