বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে একজন নিহত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের হাসাদাহ ইউনিয়নে শত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান (৫২) নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় তার ছোট ভাই হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমানসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পুরো উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত হাফিজুর রহমান উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে।

আহতদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াত কর্মী সুটিয়া গ্রামের মাহদি হাসানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

শনিবার ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদ্রাসার সামনে মাহদি হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ছয় জন আহত হন। গুরুতর আহত চার জনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের পর হাসাদাহ বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবননগর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চার জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় জীবননগর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কোনও একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জীবননগর থানার পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, শত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অর্থমন্ত্রী

হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান।

তবে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে বলে তিনি জানান।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

ঠাকুরগাঁও হাসপাতালকে ৫০০ বেডে উন্নীত করা হবে: মির্জা ফখরুল 

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আধুনিক সদর হাসপাতালকে ৫০০ বেডে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তার নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও শহরে অবস্থিত ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালটি রবিবার (১ মার্চ) সকাল ৯টায় ঘুরে দেখেন তিনি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতালটি আমার কাছে পরিষ্কার মনে হয়েছে। তবে এর পরিচালনা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।

মন্ত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জুয়েলকে বলেন, সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য যা দরকার তার তালিকা দিলেই সহায়তা দেবেন।

তিনি বলেন, ডাক্তার, নার্স ও কর্মীরা ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করলে সেবার মান উন্নয়ন করা সম্ভব। তিনি সিভিল সার্জনকে পুরো জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জনসাধারণের সেবার উপযোগী করে গড়ে তোলার ব্যাপারে জোর ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন। খুব শিগগিরই জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে। সুতরাং আমরা জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি দেখতে পাবো।

অনৈতিক প্রস্তাব হত্যার পর ওবায়দুল্লাহকে ৭ টুকরা করে রুমমেট শাহীন

ওবায়দুল্লাহকে হত্যার অভিযোগে আটক রুমমেট শাহীন
রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মূলত অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর সাত টুকরা করেন রুমমেট শাহীন।

রোববার (১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করতেন।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু শাহীন জানান, তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসীম উদ্‌দীন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়। কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান।

রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই তিনি বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওই রাতে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড় ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহ খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথা ফেলা দেওয়া হয়। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লাবোঝাই কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি অংশ এরইমধ্যে পাওয়া গেছে, আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।

শাহীন হত্যা করেছে—এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে নিজেও ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু ঝগড়া-বিবাদের কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না— জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে, মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। এ বিষয়টি সে নিতে পারতো না। অনেক সময় রাতে শাহীনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত। তখন শাহীন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দিত।

হত্যাকাণ্ডের পর শাহীনের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরি করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মোড়ানো মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে মোড়ানো আরও দুটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় আরেকটি পা পাওয়া যায়।
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্‌দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলে জানানো হয়েছিল।

খুলনায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেফতার

খুলনায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ শিপন কুমার দাস (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খালিশপুর পিপলস গেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। সে প্রাইভেট শেষে বাসায় এসে ঘরে ছিল। বাসায় মেয়েকে একা রেখে পাশের বাড়ির চাচার বাড়িতে মাছ কাটার জন্য যান তার মা। সেখান থেকে ঘরে ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর শিপন কুমারের বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে আসে শিশুটি। কান্নার কারণ জানতে চাইলে মেয়ে বলে শিপন দুপুরে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য সে হুমকি প্রদান করে।

খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, ভিকটিমের মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। অভিযুক্ত শিপন রেজাউল করিমের বাড়ির কেয়ারটেকার। বিষয়টি প্রথমে চাপা থাকলেও পরবর্তীতে জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরো বলেন, শিপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা শহরের আটানী বাজারের ছোট মসজিদ মোড়ে শুক্রবার দুপুরে ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এর জেরে শনিবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় ইটপাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান নিয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি রাতেই শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরানে হামলা: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে রোববার (১ মার্চ) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যাচ্ছে। লেনদেন শুরুর পরপরই অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম কমে যাওয়া সূচকের বড় পতন হয়েছে।

আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা বিক্রির চাপ বাড়ালেও, ক্রেতাদেরও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ফলে সূচকের বড় পতনের পর, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অবশ্য ক্রেতাদের থেকে বিক্রেতাদের চাপ বেশি থাকায় সূচক বড় পতনের মধ্যেই আছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় পুঁজিবাজারেও।
তাদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বিক্রির চাপ না বাড়ালে দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়।

এমন পতনের পর বাজারে কিছু ক্রেতাদের সংক্রিয় হতে দেখা যায়। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মাত্র কমে আসে। ফলে সূচকের পতনের মাত্রাও কমে। ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ১০০ পয়েন্ট উদ্ধার হয়।

অবশ্য বাজারে সার্বিকভাবে ক্রেতার থেকে বিক্রেতার আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ‌ ফলে বড় পতনের মধ্যেই রয়েছে শেয়ারবাজার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ৩০ মিনিটে ডিএসইতে মাত্র ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫১টির। আর ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৪৩ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট কমেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৪ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসেন। ফলে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

তিনি বলেন, ইরানে হামলার পর তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব আশঙ্কা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।

এসব আশঙ্কা থাকলেও যে কোনো সময় বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি। ডিএসইর এই সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এখন অবমূল্যায়িত অবস্থায়। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিক্রির চাপ না বাড়ালে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এই আতঙ্ক শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির ভয়াবহ চাপ তৈরি করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

একটি ব্রোকারেজ হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এখন আতঙ্কে বিক্রি না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কারণ, অনেক সময় এমন তাৎক্ষণিক পতন পরবর্তীতে আংশিকভাবে কাটিয়েও ওঠে।

দাম্পত্য কলহ নিয়ে বিকেলে বৈঠক, রাতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

জয়পুরহাটের কালাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর হাতে খালেদা বিবি নামে এক গৃহবধূ খুনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা উত্তর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খালেদা বিবি উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা উত্তর পাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে ও আব্দুল বাকির স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল বাকি তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করে আসছিলেন। সন্দেহের জেরে বিভিন্ন সময় পরিবারে কলহ লেগেই থাকতো। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তার স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করতেন, টাকা না পেলে গহনা ও মোবাইল ফোন নিয়ে বিক্রি করে দেন।

শনিবার বিকেলেও তার স্ত্রীর সোনার চেইন এবং মোবাইল নিয়ে নেন। পরে তার স্ত্রী গ্রামের লোকজনদের জানালে পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে চেইন ও মোবাইল খালেদা বিবিকে ফেরত দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে গ্রামবাসী স্থান ত্যাগ করলে শোয়ার ঘরে যান ওই দম্পতি। পরে রাত আনুমানিক তিনটার দিকে সেহরি খাওয়ার জন্য তাদের বাসায় থাকা গৃহকর্মী আব্দুল বাকিকে ডাকলে তিনি দরজা খুলে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। তখন রুমে এসে খালেদা বিবিকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে কালাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, ঘরের ভেতর খালেদা বিবিকে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আসার খবরে নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান উধাও

রাজধানীর নিউমার্কেটে একটি ফুটওভার ব্রিজের উদ্বোধন করতে আসবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এজন্য ফুটওভার ব্রিজের আশপাশের ফুটপাতে থাকা দোকান সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এতে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে। আগে যেখানে হাটা কষ্টকর ছিল সেখানে গাড়ির গতি অনেকটা বেড়েছে।সাধারণ মানুষরা বলছেন, প্রতিদিন যদি মন্ত্রী আসতেন আর ফুটপাতের দোকান সরিয়ে দেওয়া হতো তাহলে যাতায়াতে এত কষ্ট আর হতো না।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটে সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মন্ত্রী আসবেন সেজন্য নিউমার্কেট, ধানমন্ডি থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হন। মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে টানানো হয় ব্যানার। যেখানে ছোট ছোট দোকানে সড়কের অনেকাংশ দখল হয়ে থাকতো সেখানে দোকানই নেই। এতে নিউমার্কেটের সামনের মিরপুর রোড দিয়ে যানচলাচলে গতি বাড়ে।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, নিউমার্কেটের যানজটের অন্যতম কারণ সড়কে থাকা ফুটপাতের দোকান। এসব দোকান সড়কের অনেকটা জায়গাজুড়ে থাকে। এতে ভয়াবহ যানজটে পড়তে হয় সাধারণ মানুষের। দোকান না থাকায় চলাচলে আজ কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। জ্যামে অনেক সময় নষ্ট হয়। ফুটপাতে দোকান থাকার কারণেই যানজট হয়। শুনেছি আজ মন্ত্রী আসবেন। এজন্য বোধহয় দোকানগুলো সব তুলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে। প্রতিদিন যদি মন্ত্রী আসতেন তাহলে দোকানগুলো আর থাকতো না।

সালমান নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, মন্ত্রী আসবে এজন্য দোকান উঠানো হয়েছে। চলে গেলে দোকান আবারও বসবে। নিউমার্কেটের ফুটপাতে দোকান না বসলে বসবে কোথায়! এ কথা বলে একটু হাসি দেন তিনি।

মন্ত্রী আসার খবরে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকেও বেশ দায়িত্বশীল থাকতে দেখা গেছে। আগে যেখানে যত্রতত্র যাত্রী উঠাতে বাস থামতো আর যানজট তৈরি হতো সেখানে আজ চলতি কোনো গাড়িই দাঁড়াতে পারছে না। বেশ কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

গণভবন নয়, সংসদ হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদকে দেশের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। অতীতে জাতীয় সংসদ নামমাত্র থাকলেও মূল কেন্দ্র ছিল গণভবন। এখন সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও বহুমত থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐকমত্যে থাকতে হবে। জাতীয় সংসদকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করবো। অতীতে জাতীয় সংসদ নামমাত্র থাকলেও মূল কেন্দ্র ছিল গণভবন। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি। জাতীয় সব ইস্যু সেখানে আলোচনা হবে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি কার্যকর সংসদ গঠনই হবে আগামীর লক্ষ্য।

এনসিপি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম বছরই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে ছয়টি আসন পাওয়া দলটির জন্য বড় সাফল্য। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সময় লাগবে তবে সবকিছু ওভারনাইট (রাতারাতি) হয় না। রাজনীতির উত্থান-পতন যারা মানতে পারেনি তারা রাজনীতিতে টিকে থাকেনি।

রাজনীতির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা এখন সনাতন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ১৯৫২ বা ১৯৭১ এর ইতিহাস দিয়ে বক্তব্য শুরু করতে করতে বর্তমানের জন্য আর কিছু থাকে না বক্তব্যে। আমাদের ইতিহাসের পাশাপাশি ভূগোলের দিকেও তাকাতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য রাজনীতি করতে হবে।

গণতন্ত্রের মাঠে শত ফুল ফুটবে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অনেক ফুলকে দেখেছি শুধু রাজনৈতিক সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এনসিপি যেন সত্যিকার অর্থে এই দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এ দেশের জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা তারা যেন ধারণ করে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেই রকম রাজনীতি এনসিপি যেন করে। রাজনীতি একটি গতিশীল বিষয়। আমাদের গতিশীলতাকে মেনে নিতে হবে। আমরা সবাই জাতীয় স্বার্থে এক থাকবো।