২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামি খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাদের আইনজীবীরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার শুনানি শেষে ব্রিফিংয়ে এ আশার কথা জানান পলাতক সাত আসামির রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ফরমাল সাক্ষী, যারা বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। বাকি ১২ জন ছিলেন ভুক্তভোগী ও নিহতদের স্বজনসহ প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, সাক্ষীদের কেউই ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ আলী আরাফাত বা বাহাউদ্দিন নাছিমকে গুলি বা হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত করে কোনো সাক্ষ্য দেননি।
তিনি বলেন, মামলায় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির বিষয়টি আসতে পারে। তবে ওবায়দুল কাদের কোনো যুদ্ধের কমান্ডার ছিলেন না, তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার দাবি, আন্দোলন দমনে যেসব আদেশ-নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো শেখ হাসিনার কাছ থেকেই এসেছে। তাই ওবায়দুল কাদের, আরাফাত ও বাহাউদ্দিন নাছিমকে এ ঘটনায় দায়ী করা যায় না। তারা খালাস পাওয়ার যোগ্য বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের পক্ষে আইনজীবী ইসরাত জাহান বলেন, তার চার আসামি আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে হত্যার কোনো নির্দেশ দেননি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তা, প্ররোচনা বা উসকানি দেওয়ারও কোনো প্রমাণ নেই।
তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই প্রসিকিউশন ‘বিয়ন্ড রিজনেবল ডাউট’ অর্থাৎ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তাই চার আসামিকে খালাস দিতে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
