মাগুরার মহম্মদপুরে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এ ঘটনায় বালিদিয়া আদর্শ মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার আবুল কালাম আজাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।
চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে মহম্মদপুর উপজেলায় শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠান বালিদিয়া আদর্শ মহিলা দাখিল মাদরাসা বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আট শিক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে মাদরাসাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ১৪ জন শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৮ জন টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। পরে তাদেরকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আট শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে মাদরাসার সুপার আবুল কালাম আজাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বালিদিয়া আদর্শ মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে আমাকে শোকজ করা হয়েছে।
এদিকে, একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদ ও স্থানীয়দের মতে, ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সহীলুদ্দীন জানান, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া আদর্শ মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এ কারণে মাদরাসার সুপার আবুল কালাম আজাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর মাদরাসাটির শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
