রাজশাহীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা যেন দিন দিন এক ভঙ্গুর দশার মধ্যে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) একই দিনে ঘটে যাওয়া দুটি ভিন্ন ঘটনা রেলওয়ের যাত্রী নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বেহাল দশাকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর এলাকায় রেললাইন ভেঙে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই, বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে পাবনা থেকে রাজশাহীগামী ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির চাকা লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী। বিশেষ করে হরিয়ান স্টেশন ছাড়ার পরপরই ট্রলির যন্ত্রাংশ ভেঙে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাটি রেলওয়ের রুটিন মেইনটেনেন্স এবং ফিটনেস চেকিংয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গাফিলতির ইঙ্গিত দেয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ মেইন লাইনে এ ধরনের ত্রুটি ঘটে যাওয়ার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।
রেলওয়েকে এ দেশের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে লাইনচ্যুতি, সিগন্যাল ত্রুটি কিংবা রেলপথ ভেঙে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাগুলো যাত্রীদের মনে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করছে। একই দিনে দুই দফা ট্রেন বন্ধ থাকার ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির বড় ধরনের ব্যর্থতা।
যাত্রী সাধারণের জীবন ও সময়ের মূল্য অনেক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জাজনক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে রেললাইন ও বগিগুলোর নিয়মিত মান যাচাই, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণে সর্বোচ্চ কঠোরতা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে রেলভ্রমণকে নিরাপদ ও আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনবে—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
