স্বাধীনতার ৩৫তম বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে ইউক্রেন। ১৯৯১ সালের ২৪ আগস্ট ইউক্রেনের পার্লামেন্ট (ভার্খোভনা রাদা) স্বাধীনতার ঘোষণা আইন পাশ করে। তাই এই দিনটি ইউক্রেনবাসীর দীর্ঘ সংগ্রাম ও সোভিয়েত শাসনের অবসানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউক্রেনের ৩৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ইউরোপীয় কমিশনের সদর দপ্তরে দেশটির জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত ইউরোপীয় কমিশনে ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন।
উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা ব্রাসেলসে ইউক্রেনের পতাকা উত্তোলন করছি। ইউক্রেন তার নিরাপত্তা ফিরে পাবে। তার স্বাধীনতা ফিরে পাবে এবং আমাদের ইউনিয়নে তার যথাযথ স্থানও ফিরে পাবে আমাদের ইউনিয়নে যেখানে এর থাকার কথা সেখানে যেন গর্বের সঙ্গে উড়তে পারে।
এদিকে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যেই হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ইউক্রেনিফর্ম জানিয়েছে, গতকাল এক দিনে ১৯৭টি সম্মুখ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের কস্তিয়ানতিনিভকা সেক্টরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
কিয়েভে ২২ আগস্ট রাতভর রেলওয়ে স্থাপনায়র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। এতে ইউক্রেনীয় রেলওয়ের এক কর্মী নিহত হয়েছেন।
এছাড়া, রুশ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের খারকিভ শহরের ওসনোভিয়ানস্কি জেলায় একটি আবাসিক বাড়িতে আগুন ধরে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এতে চারজন আহত হয়েছেন।
ইউরোপে ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইউক্রেনের স্বাধীনতা উপলক্ষ্যে ইউরোপজুড়ে দেশটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্যারিসে ২৪ আগস্ট রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আইফেল টাওয়ারকে ইউক্রেনের পতাকার নীল ও হলুদ রঙে আলোকিত করা হবে বলে জানিয়েছে লে প্যারিসিয়ান। এই আলোকসজ্জার আগে ট্রোকাদেরো চত্বরে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এতে বক্তব্য দেবেন প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার এবং ফ্রান্সে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ভাদিম ওমেলচেঙ্কো।
এ ছাড়া ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনস ব্যান্ড এবং ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর এক্সেমপ্লারি ব্যান্ড যৌথভাবে ইউক্রেনের বিখ্যাত মার্চ ‘ওহ, দ্য রেড ভাইবার্নাম ইন দ্য মেডো’ পরিবেশন করে একটি রেকর্ডিং করেছে।
কূটনৈতিক বৈঠক ও সামরিক সহায়তা
ইউরোপজুড়ে এসব কর্মসূচির পাশাপাশি কিয়েভে বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের ৩৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রায় ১০টি দেশের নেতারা রাজধানী কিয়েভে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর একটি হাইব্রিড বৈঠক অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ইউক্রেনকে সহায়তা সমন্বয়কারী দেশগুলোর এই জোটের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস , ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ম্যাক্রোঁ সরাসরি বৈঠকে অংশ না নিলেও ইন্টারনেটের ভিডিও মাধ্যমে যুক্ত হবেন।
তবে, যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ফোনালাপের পর ইউক্রেনকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সামরিক সহায়তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ম্যাক্রো। ফোনালাপে তারা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
এছাড়াও, ন্যাটোর উপ-মহাসচিব রাদমিলা শেকেরিনস্কা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাও কিয়েভের এই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর কোস্তার এই সফরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে যোগ দিতে শনিবার (২২ আগস্ট) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি আশা করছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদাররা নতুন দ্বিপক্ষীয় সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করবে।
